February 11, 2026
16

গুয়াহাটি, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — আসন্ন বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (BTC) নির্বাচনের প্রাক্কালে অসম বিজেপি-র সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে প্রকাশিত একটি AI-নির্মিত ভিডিও ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি মুসলিম সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে ভয় ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (APCC) ডিসপুর থানায় একটি FIR দায়ের করেছে।

ভিডিওটি “Assam Without BJP” শিরোনামে ১৫ সেপ্টেম্বর বিজেপি অসম প্রদেশের অফিসিয়াল X হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয়। এতে অসমকে একটি কাল্পনিক মুসলিম-প্রধান রাজ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রকাশ্যে গরুর মাংস বিক্রি, ইসলামিক স্থাপত্যে সজ্জিত স্থান, ৯০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা এবং শরিয়া-সদৃশ আইন প্রয়োগকারী মুসলিম প্রশাসকরা দেখানো হয়েছে। ভিডিওটির শেষে “Choose your vote carefully” বার্তা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় এবং নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। APCC মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান বেদব্রত বরা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ভিডিওটি কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালিয়েছে এবং পাকিস্তানের পতাকার পটভূমিতে তাঁদের দেখানো হয়েছে।

FIR-এ অভিযুক্ত হিসেবে বিজেপি অসমের সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া সেলের কো-কনভেনর শেখরজ্যোতি বৈশ্য এবং অন্যান্য অজ্ঞাতনামা কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভিডিও “অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি, ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের” উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে।

অসম বিজেপি এই অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে পাল্টা দাবি করেছে যে ভিডিওটি “কংগ্রেসের মুখোশ খুলে দিয়েছে” এবং “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের” হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকা বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বললেই যদি ইসলামোফোবিয়া হয়, তাহলে কংগ্রেস কি নিজেই মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে নিচ্ছে?”

এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছেও আবেদন করেছে, যাতে ভিডিওটি অবিলম্বে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বাচনী পরিবেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রোধ করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *