আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। ঠিক এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি এবং হারানো জমি ফিরে পেতে তৎপর কংগ্রেস—উভয় পক্ষই তাদের শীর্ষ নেতাদের ময়দানে নামিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একের পর এক র্যালি ও রোড-শোতে এখন সরগরম পুরো আসাম।আজ শনিবার থেকেই আসামে বিজেপির হাই-ভোল্টেজ প্রচার শুরু করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিকেলে গুয়াহাটিতে পৌঁছে তিনি একটি বিশাল রোড-শোর নেতৃত্ব দেবেন। আর্য বিদ্যাপীঠ খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে নেপালি মন্দির পর্যন্ত এই ১.৪ কিলোমিটার পথে প্রায় এক লক্ষ মানুষের সমাগমের আশা করছে গেরুয়া শিবির। গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিজয় গুপ্তার সমর্থনে আয়োজিত এই রোড-শোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামীকাল রবিবার ঢেকিয়াজুলি এবং টিহুতে জনসভা করবেন অমিত শাহ। অন্যদিকে, বিজেপির এই প্রচারের পালে আরও হাওয়া দিতে আগামী ৩০ মার্চ নমো অ্যাপের (NaMo App) মাধ্যমে কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ডিব্রুগড়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ১ এপ্রিল ধেমাজি ও বিহালিতে এবং ৬ এপ্রিল হোজাই ও বরপেটায় বড় জনসভা করবেন তিনি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আগামী ৩১ মার্চ তেজপুর ও গোলাঘাটে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন।
পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। দলের প্রচারের হাল ধরতে আগামী ২৯ মার্চ লখিমপুরে জনসভা করবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিজেপি বিরোধী হাওয়া এবং উন্নয়নমূলক ইস্যুকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বিজেপি ও কংগ্রেস—উভয় পক্ষই বড় বড় জনসভার মাধ্যমে ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দেবেন এমন তরুণ ভোটারদের রায় এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
