আসাম জুড়ে অবিরাম ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। গুয়াহাটি, গোলাঘাট এবং কাছাড়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
গত ২৪ ঘন্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে গুয়াহাটির রুক্মিণীগাঁও, অনিল নগর, নবীন নগর এবং ডাউনটাউন-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ বাড়িতে আটকা পড়েছেন। রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (SDRF) বন্যা কবলিত এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য নৌকা মোতায়েন করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বল বাস্তবায়নের কারণেই প্রতি বছর শহরকে এই ভোগান্তি পোহাতে হয়।
উচ্চ আসামের গোলাঘাট জেলাতেও বন্যার পানি কোর্ট রোড, বাজার, শান্তিপুর এবং তপন নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে। বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে, ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। শহরের বাইরে, বিশেষ করে ধানসিঁড়ি মহকুমার খুমটাই এবং বুটোলিখোয়া গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধানসিঁড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামবাসীরা ঘরের মধ্যে আটকা পড়েছেন এবং গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে ভুগছেন। এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাওয়ার জন্য অস্থায়ী ভেলা ব্যবহার করছি। আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না।”
দক্ষিণ আসামের কাছাড় জেলায় বরাক নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় কর্তৃপক্ষ বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (DDMA) শিলচরের বাসিন্দাদের নিচু এলাকা দিয়ে চলাচল না করার এবং সমস্ত সুরক্ষা সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের পরামর্শে জরুরি কিট প্রস্তুত রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে সঠিক তথ্য জানার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসন যাচাই না করা কোনো তথ্য বা গুজব বিশ্বাস না করার জন্যও অনুরোধ করেছে।
