জোরহাট, ১০ জুলাই: অল BTC মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (ABMSU)-এর এক নেতার সাম্প্রতিক ভাষা সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অসম সাহিত্য সভা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সভার সভাপতি ড. বসন্ত কুমার গোস্বামী বলেন, “অসমের মাটিতে যাঁরা বেঁচে থাকেন, তাঁরা এই ভূমির অধিবাসীদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না।”
ABMSU সদস্য মইনুদ্দিন আলি সম্প্রতি দাবি করেন, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমরা ভোটার তালিকায় বাংলা ভাষা বেছে নেবেন এবং অসমিয়া ভাষা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। এই মন্তব্যের পরই অসম সাহিত্য সভা সংগঠনটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। গোস্বামী বলেন, “ABMSU কি আদৌ অসমে আইনত নিবন্ধিত? তারা যা-ই বলুক, অসম সাহিত্য সভা কখনও হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। যতদিন সভা থাকবে, অসমিয়া জাতি নিজের ভূমিতে সংখ্যালঘু হবে না।”
সভা সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে অসমিয়া পরিচয় রক্ষায় একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। গোস্বামী আরও বলেন, “যাঁরা অসমের সম্পদে উপকৃত হয়েছেন, তাঁরাই আজ ভূমিপুত্রদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অবৈধভাবে দখল করা জমি খালি করতে হবে। অসমিয়া ভাষা টিকে থাকবে এবং বিকশিত হবে। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।”
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও মইনুদ্দিন আলির মন্তব্যের নিন্দা করে বলেন, “ভাষাকে ব্ল্যাকমেলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অসমিয়া ভাষা স্থায়ী—রাজ্য ও সরকারি ভাষা হিসেবে। ভোটার তালিকায় বাংলা লেখা হলে তা বিদেশিদের সংখ্যা নির্ধারণে সাহায্য করবে।”
প্রচণ্ড জনরোষের মুখে ABMSU মইনুদ্দিন আলিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং তাঁর মন্তব্যকে সংগঠনের নীতির পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, ৯ জুলাই কোকরাঝারে উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনের সময় আলি এই মন্তব্য করেন, যা অসমের সংবেদনশীল ভাষা ও রাজনীতির পরিসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
