April 3, 2026
ভোটের ডিউটিতে বনরক্ষী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা: আসাম সরকারের নির্দেশে স্থগিতাদেশ এনজিটি-র

আসামের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বনরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করার সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করল জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)। বৃহস্পতিবার এনজিটি-র কলকাতা স্থিত পূর্বঞ্চলীয় বেঞ্চ রাজ্য সরকারের গত ১৯ মার্চের একটি নির্দেশিকার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ওই নির্দেশিকায় প্রায় ১,৬০০ আসাম বনরক্ষা বাহিনী (AFPF) কর্মীকে নির্বাচনী ডিউটিতে পুলিশের সহায়তায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।

বিচার বিভাগীয় সদস্য অরুণ কুমার ত্যাগী এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য ঈশ্বর সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আইনজীবী গৌরব বনসলের দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, বনরক্ষীদের তাদের মূল কাজ অর্থাৎ জৈব সম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণ থেকে সরিয়ে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হলে তা ‘জৈব বৈচিত্র্য আইন’ (Biological Diversity Act) লঙ্ঘনের শামিল হবে।

আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, এত বিশাল সংখ্যক প্রথম সারির বনকর্মীকে সরিয়ে নিলে আসামের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল বনাঞ্চলগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে টাইগার রিজার্ভ এবং অন্যান্য সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে চোরাচালান, বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য এবং গাছ কাটার মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ট্রাইব্যুনাল এই যুক্তিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জানিয়েছে যে, এই বিষয়টি পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর গভীরে তলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এনজিটি তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছে যে, বনজ সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকার সুরক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং চোরাশিকার রোধে বনকর্মীদের উপস্থিতি অপরিহার্য। ট্রাইব্যুনাল cautionary principle বা সতর্কতামূলক নীতি প্রয়োগ করে আসাম সরকারের পরিবেশ দপ্তরের বিশেষ মুখ্য সচিবকে ‘জৈব বৈচিত্র্য আইন’ লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত গত ১৯ মার্চের ওই বিতর্কিত নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এনজিটি-র এই কড়া অবস্থানের ফলে নির্বাচনের মুখে আসাম সরকারকে বিকল্প নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে আদালতের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে প্রশংসা করেছেন পরিবেশবাদীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *