আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানের তেল সম্পদ ‘দখল’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারী এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করে, তবে তেলের দাম আরও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক দেশই এখন তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে, কারণ ১১৬ ডলারের এই মূল্যবৃদ্ধি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বের পরিবহন ও উৎপাদন খাতের খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, তবুও আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাস দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব। যদি দ্রুত কোনো সমাধান না আসে, তবে তেলের বাজার আরও অস্থির হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
