February 11, 2026
16

আধুনিক কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় কাজ করা, দ্রুত পদোন্নতি পাওয়া এবং চাকরিকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে একীভূত করা বহুদিন ধরে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম, বিশেষত জেনারেশন জেড, এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা বেছে নিচ্ছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি—ক্যারিয়ার মিনিমালিজম

ক্যারিয়ার মিনিমালিজমে কাজকে জীবনের কেন্দ্র নয়, বরং জীবনের সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। জেন জেড-এর কাছে সাফল্য মানে শুধু পদোন্নতি বা বড় পদ নয়; বরং মানসিক শান্তি, নমনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা। তারা এমন চাকরি বেছে নিচ্ছে যা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জীবনের অন্যান্য দিক—সৃজনশীলতা, সামাজিক কাজ, ব্যক্তিগত বিকাশ—কে সমান গুরুত্ব দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা এসেছে কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, ছাঁটাই এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা থেকে। জেন জেড বুঝতে পেরেছে যে কর্পোরেট মই বেয়ে ওঠা সবসময় নিরাপত্তা দেয় না। তাই তারা একক ক্যারিয়ার পথের বদলে “লিলি প্যাড” পদ্ধতি গ্রহণ করছে—অর্থাৎ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সুযোগের ওপর ভর করে এগিয়ে চলা।

ক্যারিয়ার মিনিমালিজম মানে কাজকে অবহেলা করা নয়। বরং এটি হলো সচেতনভাবে কাজের ভূমিকা নির্ধারণ করা, যাতে ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অনেক তরুণই সৃজনশীল প্রকল্প, কমিউনিটি উদ্যোগ বা পার্শ্বচাকরির মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি খুঁজে নিচ্ছেন।

এই প্রবণতা কর্মক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোম্পানিগুলো এখন ভাবছে কীভাবে নমনীয় কাজের পরিবেশ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ দিয়ে তরুণ কর্মীদের আকৃষ্ট করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্যারিয়ার মিনিমালিজম ভবিষ্যতে কর্মসংস্কৃতিকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে। এটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যই নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে নতুন ধরনের উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবনও আনতে সক্ষম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *