March 26, 2026
কংগ্রেসহীন ডিব্রুগড়: আসামের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের প্রতীক

একসময় উত্তর-পূর্ব ভারতে কংগ্রেসের অন্যতম অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল ডিব্রুগড়। এমনকি জনপ্রিয়তার বিচারে একে রায়বেরেলির সাথেও তুলনা করা হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই ডিব্রুগড় আজ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসামের রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়।১৯৮২ সালের দিকে ডিব্রুগড়ে বিজেপির অস্তিত্ব ছিল নগণ্য। সে সময় বিজেপির প্রার্থী মাত্র ২৬০ থেকে ২৭০টি ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, চা বাগানের শ্রমিক সম্প্রদায়ের ওপর ভিত্তি করে কংগ্রেসের আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। তবে এই চিত্র বদলাতে শুরু করে ২০০৬ সাল থেকে। সে বছর বিজেপি নেতা প্রশান্ত ফুকন মাত্র ১৭৫ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী কল্যাণ কুমার গগৈকে পরাজিত করে এক অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে আনেন।

এরপর থেকে বিজেপির জয়ের ব্যবধান কেবল বেড়েছেই। ২০১১ সালে ফুকন ১৯,০০০ ভোটে জয়ী হন। ২০১৬ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২৭,৩৭৪-এ। সর্বশেষ ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি ৩৮,০০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ১৫ বছরের ব্যবধানে ডিব্রুগড় পুরোপুরি কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়ে বিজেপির দখলে চলে যায়।২০২৬-এর নির্বাচনী পরিস্থিতি এই পরিবর্তনের গভীরতা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই প্রথমবারের মতো ডিব্রুগড় আসনে কংগ্রেস নিজেদের কোনো প্রার্থী দাঁড় করায়নি। বদলে তারা আসনটি তাদের মিত্র দল ‘আসাম জাতীয় পরিষদ’ (এজেপি)-কে ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমানে এই আসনে লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী—বিজেপির প্রশান্ত ফুকন, এজেপি-র মৈনাক পাত্র এবং বিকাশ ইন্ডিয়া পার্টির কমল হাজারিকা। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মূল লড়াই হবে বিজেপি এবং এজেপি-র মধ্যেই।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত ফুকন কংগ্রেসকে ‘দিশাহীন জাহাজ’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যে দল একসময় কয়েকশ ভোট পেতে লড়াই করত, আজ সেই দলই নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারছে না—এটিই প্রমাণ করে যে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ফুকনের মতে, ভোটাররা কংগ্রেসের পুরনো এবং কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা ত্যাগ করে বিজেপির কর্মমুখী সংগঠনকে বেছে নিয়েছে। কংগ্রেসের আসন ছেড়ে দেওয়াকে তিনি দলের আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।ডিব্রুগড়ে আজ কংগ্রেসের অনুপস্থিতি এবং বিজেপির শক্ত অবস্থান কেবল একটি বিধানসভা আসনের বিষয় নয়; এটি পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। এখন প্রশ্ন উঠছে, ডিব্রুগড় কি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এটি উত্তর-পূর্ব ভারতে কংগ্রেসের ঐতিহ্যের চূড়ান্ত পতনের ইঙ্গিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *