২০২০ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক বোদো শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে বিলম্বের প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারি দিল অল বোদো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এবিএসইউ)। সংগঠনের সভাপতি দিপেন বড়ো জানান, বছরের শেষ নাগাদ চুক্তির সব ধারা কার্যকর না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন শুরু হবে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও অসম সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা বৈঠকে এবিএসইউ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে। দিপেন বড়ো বলেন, “চুক্তির বহু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার যদি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা বাধ্য হব গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ জানাতে।”
🔹 এখনও বাস্তবায়িত হয়নি যেসব গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- ভারতের সংবিধানের ২৮০ অনুচ্ছেদে সংশোধন করে বোদোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলকে (বিটিসি) সরাসরি কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা দেওয়া
- বিটিসি-র আসন সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০-এ বৃদ্ধি এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ
- বিস্বনাথ ও শোণিতপুর জেলার ৩০০ গ্রাম বিটিআর-এ অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা
- কার্বি আংলং-এ বসবাসকারী বোদো কাচারিদের ‘এসটি হিলস’ মর্যাদা প্রদান
- বিটিআর-এর বাইরে বোদো কাচারি স্বশাসিত পরিষদ গঠন
- ২০০৬ সালের বন অধিকার আইন পূর্ণ বাস্তবায়ন
- স্কুল ও কলেজ প্রাদেশিককরণে প্রতিশ্রুতি পূরণে বিলম্ব
- বোদো ভাষা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে গড়িমসি
- এনডিএফবি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও প্যারামিলিটারি বাহিনীতে নিয়োগে অগ্রগতি নেই
- বোদোফা উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মার নামে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি-সদৃশ প্রতিষ্ঠান, স্পোর্টস অ্যাকাডেমি, এনইআরআইএমএস প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত নয়
এবিএসইউর মতে, এই বিলম্ব বোদো জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটবে, যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়।
