February 12, 2026
18

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৪৬.৪৩ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এটি ডিব্রুগড় অঞ্চলে ৫৫০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মোট উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ, যার লক্ষ্য উচ্চ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো এবং সংযোগের উন্নতি সাধন করা। যদিও প্রাথমিক খবরে ২০০ কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত অঙ্ক ১৪৬.৪৩ কোটি টাকা।

মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ অনুদান (Chief Minister’s Special Grant) এবং প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর শিক্ষা অভিযান (PM-USHA) প্রকল্পের অধীনে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই তহবিলের আওতায় ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ: নতুন একটি ছাত্রী হোস্টেল তৈরি করা হবে।
  • অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার: বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলির মেরামত ও আধুনিকীকরণ করা হবে।
  • কর্মচারী আবাসন: Type-IV আবাসন ইউনিট নির্মাণ করা হবে কর্মীদের জন্য।
  • ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও জিমনেসিয়াম: একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং জিমনেসিয়াম উন্নত করা হবে।
  • একাডেমিক ভবন ও গবেষণা কেন্দ্র: আধুনিক একাডেমিক ভবন, গবেষণা কেন্দ্র এবং ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি করা হবে।
  • লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব: লাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাবগুলি আধুনিকীকরণ ও উন্নত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়, যা শিক্ষার একটি কেন্দ্রবিন্দু, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা যোগ করে তার বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ আমি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরু করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “একবার সম্পন্ন হলে, এই প্রকল্পগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত পরিবেশকে আরও উন্নত করবে এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নই নয়, মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী পাঠক্রমকে ভবিষ্যৎমুখী করার উপরও জোর দিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অপ্রাসঙ্গিক কোর্স এবং পুরনো মতাদর্শ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরিবেশ বিজ্ঞান এবং ভাষা অধ্যয়নের মতো বিভাগগুলিকে বাজারের চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার গুরুত্বের উপর তিনি জোর দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিবেশ বিজ্ঞান এবং ভাষাবিজ্ঞানের মতো বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা প্রায়শই আমার কাছে চাকরি চাইতে আসে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি যদি বছরে ১৫% হারে বৃদ্ধি না পায়, তাহলে চাকরি আসবে কোথা থেকে?” তিনি উল্লেখ করেন, আসাম বর্তমানে অর্থনৈতিক অবদানের দিক থেকে ১৭তম স্থানে রয়েছে, যা বিহার ও পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলির কাছাকাছি। এই অবস্থান উন্নত করতে তিনি দ্রুত শিল্পায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, উভয় দেশই আসাম থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে যদি যুবকদের জাপানিজ বা কোরিয়ান ভাষার মতো স্থানীয় ভাষাগুলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “তারা আমাকে বলেছে যে আমরা যদি তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি তবে তারা আসাম থেকে পাঁচ লক্ষ লোককে নিয়োগ করতে পারে।” তিনি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক সুযোগগুলির জন্য প্রস্তুত করবে।

মুখ্যমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে আসামকে এমন প্রতিযোগিতামূলক, শিল্প-প্রস্তুত জনশক্তি উৎপাদনে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা মানিয়ে নিতে না পারি, তবে আমরা স্থায়ীভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছি।”

এই পদক্ষেপগুলি ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি এবং গবেষণা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার এবং আসামের উচ্চশিক্ষার মানকে আরও উন্নত করার সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *