আসামের পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি জেলায় গুরুতর বৃষ্টিপাত ঘাটতির কারণে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খরা পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। এই জেলাগুলিতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০% কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা কৃষি এবং জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
আরাবোর আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এই বছর বর্ষা মরসুমে পশ্চিমা আসামের বরপেটা, গোয়ালপাড়া, বঙ্গাইগাঁও, নলবাড়ি এবং চিরাং জেলাগুলিতে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে কম থাকায় মাটির আর্দ্রতা কমে গেছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা ইতোমধ্যে বীজতলা তৈরি এবং রোপণ কাজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই বৃষ্টিপাত ঘাটতির ফলে ধান সহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের আয়ের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে মন্দা ডেকে আনতে পারে। এছাড়াও, পানীয় জলের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। স্থানীয় জলাশয়গুলিও শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে।
রাজ্য সরকার খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কৃষকদের সহায়তার জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগকে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের খরা পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জল সংরক্ষণ, উন্নত সেচ পদ্ধতি এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাত চাষের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণও এই সংকট মোকাবিলায় অপরিহার্য।
আসামের পশ্চিমাঞ্চলের এই খরা পরিস্থিতি রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
