অসমের ৩৬ নম্বর গৌহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রটি এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া লড়াইয়ের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। একটি সাধারণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন রূপ নিয়েছে বহুস্তরীয় সংঘর্ষে—অভিজ্ঞতা বনাম যুবশক্তি, জাতীয় রাজনীতি বনাম আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার লড়াইয়ে।
এই কেন্দ্রে মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির অভিজ্ঞ নেতা বিজয় কুমার গুপ্ত এবং অসম জাতীয় পরিষদের (এজেপি) ২৭ বছর বয়সী প্রার্থী কুঙ্কি চৌধুরী। বহু বছরের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে গুপ্ত যেখানে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতার প্রতীক, সেখানে চৌধুরী প্রতিনিধিত্ব করছেন নতুন প্রজন্মের, যাঁদের লক্ষ্য আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রশাসন।
ফ্যান্সি বাজার, পান বাজারের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি শহুরে অসমের প্রতিচ্ছবি। প্রায় দুই লক্ষ ভোটার নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রে ভোটারদের মূল চাহিদা উন্নয়ন—যেমন যানজট, জল জমা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিকাঠামোর উন্নতি।
নির্বাচনে পরিচয় রাজনীতির ইস্যুও সামনে এসেছে। তবে গুপ্ত এই বিতর্ককে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নয়নকেই মূল ইস্যু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভোটাররা বিভাজনের রাজনীতির বদলে উন্নয়নকেই বেছে নেবেন।
অন্যদিকে, চৌধুরী তাঁর প্রচারে জোর দিচ্ছেন দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যার সমাধানে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উন্নত পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নতুন ধরনের রাজনীতির বার্তা দিচ্ছেন।
এই লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে অসম গণ পরিষদের (এজিপি) অভিজ্ঞ নেতা রামেন্দ্র নারায়ণ কলিতার ভূমিকা। টিকিট না পেয়ে তাঁর অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে হস্তক্ষেপ করেছেন, যা এই আসনের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
এই কেন্দ্র শুধু একটি আসন নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীক। বিজেপির জন্য এটি শহুরে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার পরীক্ষা, আর এজেপির জন্য এটি বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ।
নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৌহাটি সেন্ট্রাল হয়ে উঠেছে এমন এক মঞ্চ, যেখানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের রাজনীতির দিশা—অভিজ্ঞতা না পরিবর্তন, ঐতিহ্য না নতুন ভাবনা।
