February 11, 2026
19

নয়াদিল্লি, ১৮ সেপ্টেম্বর — বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টাইপ ৫ ডায়াবেটিসকে একটি স্বতন্ত্র ও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। এই ডায়াবেটিস মূলত পুষ্টিহীনতা-সম্পর্কিত এবং এটি প্রধানত দরিদ্র ও মধ্য-আয়ের দেশগুলোর কিশোর ও তরুণদের মধ্যে দেখা যায়, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো অঞ্চলে।

The Lancet Global Health–এ প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, টাইপ ৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত রোগা ও অপুষ্ট, যাদের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা থাকে কিন্তু ইনসুলিন উৎপাদন কম হয়। এই রোগ টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো নয়—এতে কিটোঅ্যাসিডোসিস দেখা যায় না এবং অটোইমিউন মার্কারও অনুপস্থিত থাকে। ফলে রোগটি প্রায়শই ভুলভাবে টাইপ ১ বা টাইপ ২ হিসেবে নির্ণয় করা হয়, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৮৫ সালে এই রোগকে “malnutrition-related diabetes mellitus” হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ১৯৯৯ সালে তা বাতিল করে। এর ফলে গবেষণা, অর্থায়ন ও চিকিৎসা নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা দেখা যায়।

ভারতে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে আনুমানিক ৬% রোগী অপুষ্ট, যাদের টাইপ ৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬ মিলিয়ন ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF) সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কংগ্রেসে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের জন্য একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন ড. মেরেডিথ হকিন্স (Albert Einstein College of Medicine, USA) এবং ড. নিহাল থমাস (CMC, Vellore, India)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইপ ৫ ডায়াবেটিসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে

  • রোগ নির্ণয়ে স্পষ্টতা আসবে
  • ভুল চিকিৎসা কমবে
  • গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সহজ হবে
  • পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তা মিলবে

এই স্বীকৃতি বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে সেইসব অঞ্চলে যেখানে অপুষ্টি ও দরিদ্রতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। টাইপ ৫ ডায়াবেটিসকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে লক্ষ লক্ষ অদৃশ্য রোগীকে দৃশ্যমান করে তোলা এবং তাদের জন্য কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *