নেপালে আজ ৫ মার্চ, ২০২৬ ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা রক্তক্ষয়ী ‘জেন-জি’ (Gen Z) আন্দোলনের পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম আড়াই ঘণ্টায় দেশজুড়ে প্রায় ৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, মধ্য-সকাল পর্যন্ত ভোটদানের হার কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে নেপালের প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটার ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভা নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন। যার মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। বিশেষত আন্দোলনের পর ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া প্রায় ১০ লক্ষ নতুন ও তরুণ ভোটার এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ৩ লক্ষাধিক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নেপালের তরাই অঞ্চল থেকে শুরু করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ১০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের লড়াইয়ে ঐতিহ্যবাহী দল নেপালি কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টির পাশাপাশি র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে সোচ্চার হওয়া নেপালিদের জন্য এই নির্বাচন ভবিষ্যতের দিক পরিবর্তনের এক বড় পরীক্ষা।
