নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর শাসনামলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রাণহানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনা হিমালয় কন্যা নেপালের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত ওলি সরকারের সময়ে সংবিধান সংশোধন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা দমনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে। সেই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল। বর্তমান তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শর্মা ওলি সেই দমনপীড়নের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন অথবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন, যা আইনিভাবে দণ্ডনীয়।
এই গ্রেপ্তারের পর রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ওলির সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি অংশ। বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমেই সত্য উদঘাটিত হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নেপালের ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
