সিগ্রাম’স রয়্যাল স্ট্যাগ তাদের ফিলোজফি ‘লিভিং ইট লার্জ’-কে উদযাপন করে তাদের বহু প্রতীক্ষিত রয়্যাল স্ট্যাগ বুমবক্স-এর ফোর্থ এডিশনের সূচনা করল কলকাতার অ্যাকোয়াটিকা গ্রাউন্ডে 21 ফেব্রুয়ারি তারিখে চোখ ধাঁধানো এক উদ্বোধনী রাতের মধ্য দিয়ে। আগের এডিশনগুলোর ব্যাপক সাফল্যের উপর ভিত্তি করে এ বছর রয়্যাল স্ট্যাগ তাদের মানদণ্ডকে আরও বাড়িয়ে ফেলেছে সেরা গান-বাজনা ও গেমিং বিনোদনকে অনায়াসে একটি মন মাতানো অভিজ্ঞতার মোড়কের মধ্যে পেশ করে। বিদ্যুতের ঝলক তোলার মতন সেই সন্ধ্যায় হাজার-হাজার গুণমুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা এসে জড়ো হয়েছিলেন ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকজন শিল্পীর পারফরম্যান্স দেখার জন্য। হাই-এনার্জি সেট থেকে শুরু করে চিরকাল মনে থেকে যাওয়ার মতন অন-স্টেজ পারফরম্যান্সে ভরপুর সেই রাত সবার সামনে জোরদার ভাবে পেশ করেছিল শব্দের ঝঙ্কার, জাঁকজমক দৃশ্য, ও জেনারেশন লার্জ-এর সন্দেহাতীত মেজাজ।
কলকাতার সুবিশাল অ্যাকোয়াটিকা গ্রাউন্ড এমন এক ময়দান হয়ে উঠেছিল, যেখানে রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ-স্পর্শকে উপভোগ করা গেছে পুরো দমে। সেখানে ছিল প্রাণবন্ত কিছু ইনস্টলেশন, মন মাতানো কিছু আর্ট ডিসপ্লে, বাছাই করা কিছু খাদ্য সম্ভার, ও ইন্টাব়্যাক্টিভ জোন। সেই অনুষ্ঠান শুধুই সঙ্গীতের ছিল না। সেদিন সন্ধ্যাটা শুরু হয়েছিল পায়েল ধারে ও একজন গুণমুগ্ধ ভক্তের মধ্যে হওয়া হাড্ডাহাড্ডি ফেস-অফের মধ্য দিয়ে। ওই ভক্ত সেই অনুষ্ঠানের গোটা গেমিং রাউন্ড জুড়ে ব্যাটল করে গেছেন। শেষে তিনি জয়ী হয়ে গেমিং সেন্সেশন পায়েল ধারের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এর পরেই মঞ্চে ওঠেন ডিজে সাহিল গুলাটি তাঁর ডায়নামিক ওপেনিং সেট নিয়ে। তিনি মুহূর্তের মধ্যে তাঁর সেই সুর-তাল-ছন্দের মেজাজ তৈরি করে ফেলেন, যার আকর্ষণ থেকে দূরে থাকা যায় না। অনুষ্ঠান এরপর আরও জমজমাট হয়ে ওঠে ব়্যাপ পাওয়ার হাউজ ডিনো জেম্স মঞ্চে তাঁর ঝোড়ো পারফরম্যান্স নিয়ে আসার পরেই। তিনি নিজের হাই-এনার্জি পারফরম্যান্স দিয়ে শ্রোতাদের মন মাতিয়ে দেন একেবারে। এই অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ আরও বেড়ে যায় কিংবদন্তি রং ব্যান্ড ফসিল্স আসার পরে। তারা তাদের সাড়া জাগানো গানগুলি গেয়ে নিজেদের আইকনিক রক সাউন্ড পরিবেশন করে এবং মঞ্চে বেশ জোরদার ভাবে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়ে যায়। সেই সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে সব শেষে মঞ্চে হাজির হন সেদিনের মুখ্য আকর্ষণ অরমান মালিক। তিনি তাঁর গান দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে দেন। তিনি তাঁর সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে ভরা গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজের সেই গানগুলি গেয়েছেন, যেগুলি মিউজিক চার্টে বহু মানুষের পছন্দের গান হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে। এই উত্সবে বিভিন্ন ধারার গান-বাজনাকে যে ভাবে এক মঞ্চে এনে হাজির করানো হয়, সেই অনন্য ধারাই সেদিনকার অনুষ্ঠানে দেখতে পাওয়া গেল। সেই অনুষ্ঠান জেনারেশন লার্জকে এমন এক লাইভ অনুষ্ঠান দেখার অভিজ্ঞতা দিয়ে গেল যা কখনও ভোলা যাবে না।
ভারতীয় প্লেব্যাক গায়ক ও গীতিকার অরমান মালিক বলেন, “রয়্যাল স্ট্যাগ বুমবক্স সব সময় এমন গান-বাজনার অনুষ্ঠান উদযাপন করে যেখানে বিভিন্ন জনরা ও জেনারেশনের মানুষ এসে মিলিত হতে পারেন। সেই জিনিসটার সঙ্গেই আমি একাত্ম বোধ করি। আমার জন্য লাইভ শো মানে হল প্রকৃত মুহূর্তকে উপভোগ করা এবং সবাই মিলে একই রকম এনার্জিতে চাঙ্গা হয়ে থাকা। সিজন 4-এর জন্য কলকাতায় আসব বলে অপেক্ষা করছিলাম। এই শহর সব সময় আমাকে ভালবাসা দিয়েছে। প্রত্যেকের সঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই বেশ রোমাঞ্চকর ছিল।”
কিংবদন্তি রং ব্যান্ড ফসিল্স বলল, “ভারতের গান-বাজনার জগতে যে বদল হয়ে চলেছে তা-ই দেখতে পাওয়া যায় রয়্যাল স্ট্যাগ বুমবক্স-এ। এখানে বিভিন্ন জনরা প্রতিযোগিতায় নামে না, বরং একে অপরের সহযোগী হয়ে ওঠে। একটা ব্যান্ড হিসাবে আমরা সব সময় বিশ্বাস করি যে সব কিছুকে ছাপিয়ে আমাদের শ্রোতাদের সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত হতে হবে। কলকাতায়, মানে আমাদের নিজের শহরের মাটিতে রয়্যাল স্ট্যাগ বুমবক্স-এ পারফর্ম করাটা অনেক বেশি স্পেশ্যাল একটা ব্যাপার এবং এ এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।” ব়্যাপার ডিনো জেম্স বললেন, “কলকাতায় রয়্যাল স্ট্যাগ বুমবক্স সিজন 4-এ পারফর্ম করাটা অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। এই শহরের এনার্জি, প্যাশন ও গান-বাজনার প্রতি ভালবাসা সত্যিই অন্য রকম। রয়্যাল স্ট্যাগ বুমবক্স যে স্পেশ্যাল হয়ে উঠেছে তার কারণ হল এই যে, তারা বিভিন্ন ধরনের গান-বাজনা ও সংস্কৃতিকে একসঙ্গে জবরদস্ত এক মঞ্চে নিয়ে আসে, আর কলকাতায় সেই রকম এক অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারার যে অভিজ্ঞতা তা পুরো শরীর-মনকে চাঙ্গা করে দেয়। ”
