April 7, 2026
Screenshot 2026-04-07 130827

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কংগ্রেস নেতা পবন খেরার মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এক নতুন মোড় নিয়েছে। দিল্লিতে পবন খেরার বাসভবনে অসম পুলিশের একটি দল পৌঁছানোর পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শর্মা এক কড়া মন্তব্যে দাবি করেন যে, কংগ্রেস নেতা গ্রেফতারি এড়াতে ‘পালিয়েছেন’। ঘটনার সূত্রপাত মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম নিয়ে পবন খেরার একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যার প্রেক্ষিতে অসমের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অসম পুলিশ দিল্লিতে খেরার বাসভবনে যায়, তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযানকে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং খেরার অনুপস্থিতিকে তাঁর ‘পলায়নপর মনোবৃত্তি’র বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং কংগ্রেস দল এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে অভিহিত করেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে অপব্যবহার করছে। পবন খেরার বাসভবনে পুলিশের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলের নেতা-কর্মীরা একে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে অসম সরকারের দাবি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিল। ইতিপূর্বে বিমানবন্দর থেকে পবন খেরাকে নাটকীয়ভাবে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, এই সাম্প্রতিক অভিযান তারই একটি ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই পুরো ঘটনায় বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আপত্তিকর মন্তব্যের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জবাবে কংগ্রেস দাবি করেছে যে, সত্যের লড়াইয়ে তারা পিছপা হবে না এবং আইনি পথেই এই হয়রানির মোকাবিলা করা হবে। খেরার বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘পালিয়ে যাওয়ার’ মন্তব্য সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং পবন খেরার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে এই ঘটনা যে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনীতির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *