ইম্ফল, ১৩ সেপ্টেম্বর — ২০২৩ সালের জাতিগত সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো মণিপুর সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের জনগণের উদ্দেশে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দিলেন। চুরাচাঁদপুরে একটি জনসভায় তিনি বলেন, “আজ আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, ভারত সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে, মণিপুরের জনগণের সঙ্গে আছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ভূমি আশার ও আকাঙ্ক্ষার ভূমি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, হিংসা এই সুন্দর অঞ্চলে ছায়া ফেলেছে। আমি কিছুক্ষণ আগে শিবিরে থাকা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি—মণিপুরে নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে।”
তিনি জানান, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই ৭,০০০ নতুন বাড়ি নির্মাণে সহায়তা করছে এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য ₹৩,০০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ₹৫০০ কোটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। গত ১১ বছরে উত্তর-পূর্বে বহু পুরনো সংঘাতের সমাধান হয়েছে। মানুষ শান্তির পথ বেছে নিয়েছে এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”
তিনি চুরাচাঁদপুরে ₹৭,৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ইম্ফলে ₹১,২০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, “এই প্রকল্পগুলো মণিপুরের জনগণের জীবনমান উন্নত করবে—পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সংযোগ ব্যবস্থায়।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসারে পাহাড়ি জেলাগুলিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, “আজ চুরাচাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ রয়েছে, নতুন চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হয়েছে।”
শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সকল সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য শান্তির পথে এগিয়ে চলুন। আমি আপনাদের পাশে আছি।”
এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ইম্ফল থেকে চুরাচাঁদপুরে পৌঁছান, যেখানে স্থানীয়রা তাঁকে ঐতিহ্যবাহী কুকি শাল ও প্রতিকৃতি উপহার দিয়ে স্বাগত জানান।
