২০২৬ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক পদক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত গাজা শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করল ভারত। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। গাজা ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনে বিশ্বশক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা, যেখানে ভারত তার নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়েছে।
ভারতের এই অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ এবং ‘বিশ্বমিত্র’ নীতির এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। গাজা পুনর্গঠনে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের দক্ষতা কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ভারত জোর দিয়ে বলেছে যে, যেকোনো স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসা প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ভারত তার দীর্ঘদিনের ‘টু-স্টেট সলিউশন’ বা দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের অবস্থানে অনড় থেকেও ট্রাম্পের নতুন শান্তি প্রস্তাবের ব্যবহারিক দিকগুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের প্রভাব যেমন বাড়বে, তেমনই আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই শান্তি বোর্ড গঠনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আসতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব এবং ইজরায়েলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভারতের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, গাজা সংকটের সমাধানে দিল্লির কণ্ঠস্বর এখন বিশ্বমঞ্চে অপরিহার্য। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে তা বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা হিসেবে ভারত ইতিমধ্যেই গাজায় ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছে এবং আগামী দিনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত সাহায্য দিতেও তারা প্রস্তুত। এই বৈঠকের পর বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে গাজায় শান্তি ফেরানোর পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপগুলোর দিকে।
