মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে একটি নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার তেহরানের কাছে একটি ১৫-দফার শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরপরই ইরান তাদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে ‘অবন্ধুসুলভ নয়’ এমন তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার পারদ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় এবং এই নমনীয় বার্তার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই শান্তি পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করার শর্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে বেসামরিক কাজে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই চুক্তি করতে আগ্রহী এবং তারা ইতিমধ্যে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া শুরু করেছে।
তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ মহলে এই আলোচনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এই আলোচনার খবরকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে, এটি বাজার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল মাত্র। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) কাছে পাঠানো এক বার্তায় তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, যেসব জাহাজ ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসনে লিপ্ত নয়, তারা যথাযথ নিরাপত্তা বিধি মেনে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। যদিও মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে, তবুও ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ নমনীয়তাকে যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা আশা করছেন, ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
