ইরান সরকার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভারতকে তাদের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র’-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভারতের পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশকে এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দেশগুলোর পতাকাবাহী জাহাজগুলো এই রুট দিয়ে চলাচলের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ও সহযোগিতা পাবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইরানের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে যে, এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের অযাচিত বাধা বা সংকটের সম্মুখীন হতে হবে না। বরং জরুরি প্রয়োজনে ইরান তাদের পূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাণিজ্যিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক জয়, কারণ ভারত তার জ্বালানি আমদানির জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। এই ঘোষণার ফলে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলোর ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি বিমার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ভারতের এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ মর্যাদা লাভ করার বিষয়টি কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে। এছাড়া অন্যান্য পাঁচটি দেশের সাথে ভারতের এই তালিকায় থাকা এটিই প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিয়ম মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
পরিশেষে, ইরানের এই সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এর ফলে ভারত মহাসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে চলাচল করতে পারবে। দুই দেশের মধ্যকার এই সহযোগিতামূলক অবস্থান ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক মানচিত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
