মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধ আজ দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া আপাতত কোনো ধরনের শান্তিচুক্তি বা সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন এবং মার্কিন সমর্থিত এক নতুন ও ‘গ্রহণযোগ্য’ নেতৃত্ব নির্বাচনের পরেই কেবল দেশটিকে পুনর্গঠনে সহায়তা করবে তার প্রশাসন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আত্মসমর্পণের পরেই ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করবে আমেরিকা ও তার মিত্ররা। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছু দেশের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করলেও, ট্রাম্পের এই অনমনীয় দাবি কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধের অষ্টম দিনে এসেও তেহরান ও বৈরুতের ওপর ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। গত এক সপ্তাহের সংঘর্ষে ইরানে ১,২০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। ট্রাম্পের ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ স্লোগান এবং ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইচ্ছা সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে সহযোগিতার খবর এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে স্থবিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
