মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম স্তম্ভ এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে বা নিকটবর্তী অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত বা বিধ্বস্ত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত গতিতে নিচের দিকে নেমে আসছে এবং সজোরে মাটিতে আছড়ে পড়ার পর একটি বিশাল আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হচ্ছে। এই দৃশ্যটি কোনো এক প্রত্যক্ষদর্শীর ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কুয়েতের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা ওয়াশিংটনের সামরিক দপ্তরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত দাবি করেছে যে এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। যদিও এই বিমানগুলো কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বাহ্যিক কারণ বা হামলা রয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন থেকে প্রাথমিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, সামরিক বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটির সত্যতা এবং বিধ্বস্ত হওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করছেন। সাধারণত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হয়, তাই একসঙ্গে একাধিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দাবিটি সামরিক কৌশলবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। কুয়েতের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলবে।
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় উদ্ধার অভিযান এবং ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানের পাইলটদের পরিণতি কী হয়েছে বা তারা সময়মতো ইজেক্ট করতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনার নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে মার্কিন বিমান বহরের একটি বড় অংশকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্রাউন্ডেড করতে হতে পারে। অন্যদিকে, কুয়েতের মতো একটি মিত্র দেশ থেকে এ ধরনের দাবি আসায় দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এফ-১৫ বিধ্বস্তের এই ভিডিও এবং কুয়েতের দাবি বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় নিতে পারে।
