ভারতের বিচারব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গাজিয়াবাদের এক মুমূর্ষু রোগীর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত তাকে সম্মানজনকভাবে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বা ‘রাইট টু ডাই’-এর অধিকার মঞ্জুর করেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ বেঞ্চ এই রায় প্রদানকালে উল্লেখ করেন যে, জীবনের অধিকার যেমন মৌলিক, তেমনি একজন মানুষের যখন আর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা থাকে না এবং তিনি অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটান, তখন তার সসম্মানে বিদায় নেওয়ার অধিকারও আইনিভাবে স্বীকৃত হওয়া প্রয়োজন। গাজিয়াবাদের ওই ব্যক্তি গত কয়েক বছর ধরে স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন এবং কৃত্রিম লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বেঁচে ছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল যেন তাকে এই অমানবিক কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এই রায়টি ভারতের আইনি ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশিকা মেনে চলা হবে। এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড নিশ্চিত করে যে রোগী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না, তবেই লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। গাজিয়াবাদের ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি বিতর্কের অবসান ঘটল। যদিও এই রায়ের বিপক্ষে অনেক ধর্মীয় ও নৈতিক যুক্তি রয়েছে, তবুও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে মানবিকতা এবং ব্যক্তির যন্ত্রণার গুরুত্ব বিচারব্যবস্থায় সবার উপরে। এই রায়ের মাধ্যমে গাজিয়াবাদের ওই ব্যক্তি ও তার পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আইনি মুক্তি পেল, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিল মামলার ক্ষেত্রে একটি প্রধান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
