March 12, 2026
Screenshot 2026-03-12 142504

কেরালাজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোচির জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘সমৃদ্ধি @ কোচি’র ওপর। স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য পরিচিত এই প্রকল্পের রান্নাঘরে গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোচি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ নামমাত্র মূল্যে দুপুরের আহার গ্রহণ করেন। কিন্তু রান্নার গ্যাসের এই আকস্মিক ঘাটতি প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, গ্যাসের অভাবে বড় বড় চুল্লিগুলো জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত খাবারের যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের।

সমগ্র কেরালা রাজ্যেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনসহ প্রধান গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট ঘনীভূত হয়েছে। কোচির পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক—উভয় ক্ষেত্রেই গ্যাসের সিলিন্ডার পেতে গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বাণিজ্যিক কাজে সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে প্রতিদিন শত শত বুকিং জমা পড়লেও সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় তারা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে কোচির সমৃদ্ধি প্রকল্পের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ খাবার প্রস্তুত করতে হয়।

এই সংকটের ফলে সাধারণ রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতেও খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক ওভেন বা কেরালা স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করলেও তা খরচসাপেক্ষ এবং সবার জন্য সুলভ নয়। সমৃদ্ধি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হতে পারে, যা শহরের গরিব ও ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য এক বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজ্য সরকার পর্যন্ত এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ এবং তেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়।

বর্তমানে কেরালার অনেক এলাকায় সিলিন্ডার ডেলিভারি পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নার রুটিনকেও তছনছ করে দিয়েছে। কোচির সমৃদ্ধি প্রকল্পের এই দুরবস্থা মূলত পুরো রাজ্যের এলপিজি অব্যবস্থাপনার একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র। একদিকে তীব্র গরম আর অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের এই হাহাকার—সব মিলিয়ে কেরালার সাধারণ মানুষ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সুলভ মূল্যের খাবারের এই মহৎ উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাসের কোটা বরাদ্দ করা এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *