মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এক অস্থির ও নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাত ‘খুব শীঘ্রই’ শেষ হতে যাচ্ছে। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে একটি ‘ছোট সফর’ (little excursion) হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরান বর্তমানে নেতৃত্বহীন এবং সামরিকভাবে তাদের আর বড় কোনো সক্ষমতা অবশিষ্ট নেই। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে তেহরান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল নয়, বরং তেহরানই নির্ধারণ করবে এই যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে।
যুদ্ধের এই উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের ওপর এমন ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেক্ষেত্রে ইরানকে আগের চেয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত সইত হবে। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর হামলা বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তারা এ অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেবে না। তেলের দাম এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে উঠে গেলেও ট্রাম্পের আশ্বাসের পর তা কিছুটা কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি এখনো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
মাঠের লড়াইয়েও পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়ছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে শত শত বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এদিকে ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির অভিষেকের পর তেহরানের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প খামেনির এই উত্তরসূরিকে ‘লাইটওয়েট’ বলে উপহাস করলেও, ইরানি জনগণ রাস্তায় নেমে তাদের নতুন নেতার প্রতি সমর্থন ও যুদ্ধের প্রতি প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার প্রশাসন ইরানের প্রায় ৩,০০০ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে, কিন্তু পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে লড়াই ‘মাত্র শুরু হয়েছে’। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং তেহরানের অনমনীয় মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার দাবি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি শান্ত হওয়া এখনো অনেক দূরের পথ।
