অসম বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। আর এই প্রচার অভিযানের মাঝেই এক অন্যরকম মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সকালে ডিব্রুগড়ে নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার আগে তিনি সময় কাটালেন মনোহরি চা বাগানের মহিলা শ্রমিকদের সাথে। অসমের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘চা’-কে রাজ্যের প্রাণভোমরা বলে অভিহিত করলেন তিনি।
বুধবার সকালে ডিব্রুগড়ে রাত্রিযাপনের পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পৌঁছে যান স্থানীয় চা বাগানে। সেখানে তিনি কেবল শ্রমিকদের সাথে কথাই বলেননি, বরং প্রথাগত ঝুড়ি পিঠে বেঁধে নিজে হাতে চা পাতাও তোলেন। ১৯ জন মহিলা শ্রমিকের সাথে প্রায় আধঘণ্টা সময় কাটান তিনি। এই সময় শ্রমিকরা তাঁদের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা এবং মজুরি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন।
সফরের এই মুহূর্তগুলো প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (X) শেয়ার করেছেন। তিনি একে একটি ‘স্মরণীয় অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করে লেখেন, “চা পাতা তোলার পর মহিলারা তাঁদের সংস্কৃতির কথা শোনালেন এবং অবশ্যই শেষটা হলো সেলফি দিয়ে!” শ্রমিকদের পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ‘ঝুমুর’ নৃত্যও উপভোগ করেন তিনি। মোদী জানান, অসমের চা আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং এর পেছনে রয়েছে এই চা বাগান পরিবারগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া এবং জোরহাটের মতো জেলাগুলোতে চা শ্রমিকরা একটি বিশাল ভোটব্যাঙ্ক। তাঁদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মূলত এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সমর্থন নিশ্চিত করতে চাইছেন। ডিব্রুগড়ের এই সফর শেষ করে তিনি গোগামুখ এবং বিহালীতে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে রওনা হন।
আগামী ৬ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী পুনরায় ডিব্রুগড়ের মোরানে একটি বড় জনসভায় অংশ নেবেন। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় জনসংযোগ এবং চা শ্রমিকদের প্রতি তাঁর এই বিশেষ বার্তা অসমের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
