শাসক দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সোমবার অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসমের অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন। কাছাড় জেলার বরখলায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় খাড়গে দাবি করেন, এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিজেপি সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজেপির বয়ানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খাড়গে কিছু তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে প্রায় ৮৮,৭৯২ জন অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর বিপরীতে, তিনি অভিযোগ করেন যে মোদী সরকারের অধীনে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মাত্র ২,৫৬৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “অমিত শাহ যখন এখানে আসেন, তিনি কেবল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলেন। কিন্তু বিজেপি তাদের তাড়িয়ে দেয় না; বরং তাদের লালন-পালন করে যাতে তাদের নামে রাজনীতি করা যায়।”
অনুপ্রবেশ ইস্যু ছাড়াও খাড়গে অসমে ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন বা সমষ্টি পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে বিজেপিকে অন্যায্য নির্বাচনী সুবিধা দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন। ভূমির অধিকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের নামে অসমের হাজার হাজার একর জমি এবং বন কর্পোরেট সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান প্রশাসন রাজ্যের জল, খনি এবং শক্তির মতো প্রাকৃতিক সম্পদ “বিক্রি করে দিচ্ছে”।
বরাক উপত্যকার সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলোর ওপর আলোকপাত করে খাড়গে বিজেপিকে গত দশ বছরের অবহেলার জন্য দায়ী করেন। শিলচরের বারংবার বন্যা, ভেঙে পড়া নিকাশি ব্যবস্থা এবং তীব্র যানজটকে তিনি ব্যর্থ উন্নয়নের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। খাড়গে উল্লেখ করেন যে, প্রতি বছর ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সরকার বন্যা সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।
বক্তব্যের শেষে খাড়গে দেশ এবং রাজ্যের ঐতিহ্য রক্ষায় বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কাছাড়ের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল নির্বাচনী স্লোগান মাত্র, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অঞ্চলের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তিনি নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
