February 11, 2026
SIL 2

প্রতি বছর আজকের দিনে দেশজুড়ে পালিত হয় নৌসেনা দিবস। শুধু আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, নৌবাহিনীর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বা অপারেশন ট্রাইডেন্টের বীরত্বই নয় ভারতের সামুদ্রিক শক্তির মূল ভিত্তি কোথায় গড়ে উঠেছিল, আজকের দিনে সেই প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে আসে।

এ বছরও দেশের বিভিন্ন নৌঘাঁটিতে কুচকাওয়াজের পাশাপাশি সমুদ্রযুদ্ধের মহড়া, আধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ও সাবমেরিনের প্রদর্শনী নজর কেড়েছে। কিন্তু এই শক্তির শিকড় যে ৩৫০ বছর আগেই পাতা হয়েছিল, তা মনে করিয়ে দেয় একটি নাম ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ।

যখন অধিকাংশ ভারতীয় রাজ্য স্থলভূমির যুদ্ধ ও রাজনীতি নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল, তখন শিবাজী মহারাজ উপলব্ধি করেছিলেন,“যে সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ করবে, সে-ই বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে।”

এই এক উপলব্ধিই তাঁকে আলাদা করে তোলে। যে সময়ে পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশরা সমুদ্রপথ দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন শিবাজী মহারাজ ভারতীয় উপকূলকে ঢাল হিসেবে নয়, ঢেউয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনার রাস্তা হিসেবে দেখেছিলেন।

১৯৭১ সালের অপারেশন ট্রাইডেন্ট ভারতীয় নৌবাহিনীর সাহস, গতি ও কৌশলগত তৎপরতার প্রতীক। কিন্তু সামুদ্রিক যুদ্ধে গতি, ছোট ও চটপটে জাহাজের ব্যবহার, শত্রুকে অপ্রত্যাশিত আক্রমণে বিস্মিত করা এ সবই শিবাজীর নৌকৌশলের ছায়া।

আজকের আধুনিক শব্দ ‘স্টেলথ অপারেশন’,  শিবাজীর আমলে সেটাই ছিল ‘সমুদ্রে গেরিলা যুদ্ধ’। সিন্ধুদুর্গ, বিজয়দুর্গ, সুবর্ণদুর্গ এগুলো শুধু দুর্গ নয়, ভারতের প্রথম নৌ-রাডার স্টেশন বললেও ভুল হয় না। এই দুর্গগুলিতে ছিল শত্রুর গতিবিধি নজরদারি, নৌবহরের দ্রুত গতিবিধির ব্যবস্থা, সমুদ্রপথে ট্যাক্স ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি শক্তির দৌরাত্ম্য রোধ সহ এই দুর্গগুলি গোয়া – দেবরেখার পাশ দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজকে বার্তা দিত ‘এ উপকূল অরক্ষিত নয়।‘

এ বছর নৌসেনা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিক রূপ – INS Vikramaditya, INS Kolkata-class destroyer, Scorpene-class submarine, তাদের প্রতিটি শক্তি যেন ইতিহাসের পাতায় শিবাজীর লেখাই পুনর্লিখন করে। শুধু প্রযুক্তির নয়, এটি এক দীর্ঘ ঐতিহ্যের ফল যার প্রথম স্থপতি ছিলেন শিবাজী মহারাজ। শিবাজী মহারাজকে  বলা হয় ‘ফাদার অফ ইন্ডিয়ান নেভি’।

ভারতের আধুনিক নৌশক্তি যতই এগোচ্ছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের উপস্থিতি যতই দৃঢ় হচ্ছে। আর ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, সমুদ্রকে যে রাষ্ট্রনির্মাণের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা উচিত, সেই শিক্ষা ভারত প্রথম পেয়েছিল শিবাজীর কাছ থেকেই।

নৌসেনা দিবস তাই একদিকে বীরত্বের স্মৃতি, অন্যদিকে শিবাজী মহারাজের সেই দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। যিনি ভারতের সামুদ্রিক শক্তির পথচলা শুরু করেছিলেন ইতিহাসের বহু আগেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *