ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো জেরুজালেমে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুই দিনের ইসরায়েল সফর চলাকালীন একটি বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন বিশ্ববাসী। বুধবার রাতে আয়োজিত এক নৈশভোজের ঠিক আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর ‘বন্ধু’ মোদীকে চমকে দিতে সম্পূর্ণ প্রথাগত ভারতীয় পোশাকে হাজির হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে নেতানিয়াহু জানান যে, দুই নেতার যৌথ নৈশভোজের আগে তিনি মোদীকে এই বিশেষ সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলেন। নেতানিয়াহুকে ঐতিহ্যবাহী ‘মোদী জ্যাকেট’ পরিহিত অবস্থায় দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদীও বেশ উচ্ছ্বসিত হন এবং তাঁর এই আন্তরিকতাকে ‘চমৎকার’ ও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি গভীর সম্মানের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন।
এই সফরটি ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য দ্বিতীয়বার ইসরায়েল সফর এবং এটি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নৈশভোজের আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ মোদীর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে নেতানিয়াহু তাঁকে শুধু বন্ধু নয়, বরং ‘ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর মোদীই ছিলেন প্রথম সারির বিশ্বনেতা যিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের এই সম্পর্ককে কেবল প্রযুক্তি বা প্রতিরক্ষা সমঝোতা নয়, বরং দুই প্রাচীন সভ্যতার এক শক্তিশালী মেলবন্ধন হিসেবে তুলে ধরেন। এমনকি হাস্যরস করে তিনি জানান যে, মোদীর পকেট স্কোয়ারের জাফরান রঙের সাথে তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর পোশাকের রঙের মিলও দুই দেশের গভীর বন্ধনের এক প্রতীকী চিত্র।
দুই নেতার এই ব্যক্তিগত রসায়ন কেবল সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; সফরের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়া-ইসরায়েল ইনোভেশন ব্রিজ’-এর মাধ্যমে দুই দেশের স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তি খাতকে একীভূত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। নৈশভোজে এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর এই ‘পোশাকী চমক’ এবং মোদীর প্রতি তাঁর ভ্রাতৃসুলভ আচরণ বিশ্বমঞ্চে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করল।
