মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড় হিসেবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপের পর এই সমঝোতায় পৌঁছান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর অনুরোধের প্রেক্ষিতেই নেতানিয়াহু তার রণকৌশল পরিবর্তনের এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর ফলে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কিছুটা স্তিমিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সমঝোতার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছিল। বিশেষ করে গত কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইসরায়েলি নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সামরিক শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনাই হবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অগ্রাধিকার। ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং তারা এখন সরাসরি হামলা চালানোর পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়ে ভাবছে।
অন্যদিকে, ইরানের গ্যাস ও জ্বালানি ক্ষেত্রগুলোতে হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার ঝুঁকি ছিল, যা অনেক দেশের অর্থনীতিতেই ধস নামাতে পারত। ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতাকে তার ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা, অন্যদিকে সমালোচকরা পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিয়ে সন্দিহান। তবে আপাতত নেতানিয়াহুর এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য মহাযুদ্ধের দাবানল নেভাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যে এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আসে, তা এখন দেখার বিষয়।
