March 27, 2026
নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মোড়: ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সক্রিয়তায় অস্বস্তিতে হেভিওয়েটরা

অসমের ডিব্রুগড় জেলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। নির্দল প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর লড়াইয়ের ময়দান কিছুটা পরিষ্কার হলেও, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বা জেএমএম-এর আকস্মিক সক্রিয়তা শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে চা-বাগান এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জেএমএম-এর উপস্থিতি নির্বাচনের প্রথাগত সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।ডুলিয়াজান এবং ডিব্রুগড়সহ জেলার ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম স্পষ্ট। দুলিয়াজানে দুই নির্দল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর পর লড়াই এখন মূলত ত্রিমুখী। এখানে বিজেপির রামেশ্বর তেলির বিরুদ্ধে লড়ছেন কংগ্রেসের ধ্রুব গগৈ এবং জেএমএম-এর পিটার মিঞ্জ। অন্যদিকে, চাবুয়া-লাহowal কেন্দ্রে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যেখানে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক বিনোদ হাজারিকাকে কড়া টক্কর দিতে ময়দানে আছেন কংগ্রেসের প্রাঞ্জল ঘাটোয়ার এবং জেএমএম-এর ভূপেন সিং মুরারি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হলো জেএমএম-এর প্রভাব। অল আদিবাসী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ অসমের (AASAA) একটি অংশের সমর্থন পাওয়ায় চা-বাগান এলাকায় তাদের জনভিত্তি দ্রুত বাড়ছে। গত এক দশকে চা-শ্রমিকদের যে বড় ভোটব্যাঙ্ক কংগ্রেস থেকে বিজেপির দিকে সরে গিয়েছিল, জেএমএম-এর আগমনে তাতে বড়সড় ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়াতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন খোদ ডিব্রুগড়ে প্রচারে আসছেন। তাঁর এই সফর আদিবাসী ভোটারদের মন জয়ে জেএমএম-কে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। নাহরকাটিয়া এবং টিংখং-এর মতো কেন্দ্রগুলোতেও জেএমএম প্রার্থীরা লড়াইকে বহুমুখী করে তুলেছেন, যা ভোট বিভাজনের মাধ্যমে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।ডিব্রুগড়ের এই জটিল নির্বাচনী পাটিগণিতে শেষ হাসি কে হাসবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। একদিকে বিজেপির আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে কংগ্রেসের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই; আর এই দুইয়ের মাঝে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *