March 25, 2026
চায়ের গুণমানে আর আপস নয়; স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ‘টি মার্ক’ আনল টি বোর্ড

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের গুণমান নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া। এবার থেকে প্যাকেটজাত চায়ের গায়ে দেখা যাবে বিশেষ শংসাপত্র লোগো— ‘টি মার্ক’। ২০ মার্চ এক বিশেষ সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে। চায়ের উৎস বা কোয়ালিটি নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই উদ্যোগ। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখুন।

ভারতীয় চায়ের ঐতিহ্যকে আরও মজবুত করতে এবং বাজারে স্বচ্ছতা আনতে ‘টি মার্ক’ (Tea Mark) নামক একটি নতুন সার্টিফিকেশন সিস্টেম চালু করল টি বোর্ড। এর প্রধান লক্ষ্য হলো ক্রেতাদের কাছে এটি নিশ্চিত করা যে, তারা যে চা কিনছেন তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই (FSSAI)-এর নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি।

এই ‘টি মার্ক’-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো এর ‘ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি’ (Digital Traceability)। অর্থাৎ, এই লোগো সম্বলিত চায়ের প্যাকেট থেকে খুব সহজেই জানা যাবে সেই চা ঠিক কোন বাগান থেকে এসেছে এবং কোন কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে। এর ফলে চায়ের ভেজাল রোধ করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।

টি বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, এই শংসাপত্র গ্রহণ করা আপাতত বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি একটি ‘স্বেচ্ছামূলক’ (Voluntary) প্রক্রিয়া। ২০০৩ সালের টি (মার্কেটিং) কন্ট্রোল অর্ডারের অধীনে নিবন্ধিত উৎপাদনকারীরাই কেবল এই শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন। টি বোর্ড অনুমোদিত ল্যাবরেটরির মাধ্যমে চায়ের নমুনা পরীক্ষা করার পরেই এই বিশেষ লোগো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে টি বোর্ড আরও একটি অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে। শুধুমাত্র ‘টি মার্ক’ প্রাপ্ত পণ্যগুলোর বিক্রির জন্য একটি ডেডিকেটেড ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এর ফলে মানসম্পন্ন চায়ের ব্র্যান্ডিং যেমন বাড়বে, তেমনি ক্রেতারাও এক ছাদের নিচে আসল এবং যাচাইকৃত চা খুঁজে পাবেন।

যদিও এই নিয়ম এখনই সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে শিল্প মহলের মতে, সচেতন ক্রেতারা যেহেতু এখন গুণমানের বিষয়ে অনেক বেশি সজাগ, তাই আগামী দিনে বাজারে টিকে থাকতে ‘টি মার্ক’ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতীক হয়ে উঠবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের বিস্তারিত নির্দেশিকা ও কাজের পদ্ধতি বা এসওপি (SOP) প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *