অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে কাছাড় জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও, জেলার একাধিক বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সামগ্রিকভাবে ৮২.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন। নির্বাচন কমিশনের ইসিআই-নেট (ECINet) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, কাছাড় জেলায় এবার ভোটের হার ছিল অত্যন্ত সন্তোষজনক। সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। কয়েকটি জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও দ্রুত তা সমাধান করা হয়। ফলে জেলার কোথাও আইন-শৃঙ্খলার বড় কোনো অবনতি ঘটেনি বা ভোটগ্রহণে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটেনি। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় দিনভর ভোটদান প্রক্রিয়া ছিল অবাধ ও স্বচ্ছ।
ভোটদানের হারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যেই ভোটারদের গতি বৃদ্ধি পায়। দুপুরের দিকে কাটিগড়া কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৬২.৮৩ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়। বিকেলের দিকে এই হার আরও বাড়ে। বিকেলের শেষ পর্যায়ে কাটিগড়া ৮৬.৩৭ শতাংশ ভোট নিয়ে জেলায় শীর্ষে অবস্থান করছে। এর পরেই রয়েছে বরখলা (৮৩.৯৬ শতাংশ) এবং লক্ষীপুর (৮৩.৭০ শতাংশ)। অন্যদিকে, শিলচর কেন্দ্রে ৭৯.৯৭ শতাংশ এবং ধলাই কেন্দ্রে ৭৮.৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেল ৫টার পরেও অনেক বুথে ভোটারদের ভিড় থাকায় চূড়ান্ত হিসেবে এই শতাংশের হার সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কাছাড়ের এই বিপুল ভোটদানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সর্বস্তরের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে উদরবন্দ এবং ধলাইয়ের মতো কেন্দ্রগুলোতে বিকেলের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে ইভিএমগুলো কড়া নিরাপত্তায় স্ট্রং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক চেতনার মেলবন্ধনে কাছাড়ের এই নির্বাচন একটি সফল নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে এখন সকলের নজর আগামী ফলাফল ঘোষণার দিকে। কোনো বড় ধরনের অশান্তি ছাড়াই এত বিশাল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ অসমের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিতকে আরও মজবুত করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
