বাজেট অধিবেশন চলাকালীন লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের সম্পদ এবং পরিকাঠামো মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিল্পপতির হাতে তুলে দিয়ে কার্যত ‘দেশ বিক্রি’ করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। রাহুল গান্ধীর দাবি ছিল, বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং সরকার কেবল তাদের ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতিদের সুবিধা করে দিতেই ব্যস্ত। এই মন্তব্য করার সাথে সাথেই শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই অভিযোগের পালটা জবাব দিতে উঠে দাঁড়ান। রিজিজু অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী লোকসভার মতো পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করছেন।
কিরেন রিজিজু তার বক্তব্যে পাল্টা দাবি করেন যে, কংগ্রেস শাসনামলে দেশ যেভাবে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে ভারতকে মুক্ত করে একটি স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলছে। তিনি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বিদেশি মঞ্চে এবং সংসদে দেশের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা বিরোধী দলনেতার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রিজিজু প্রশ্ন তোলেন যে, উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারকে যদি ‘দেশ বিক্রি’ বলা হয়, তবে তা দেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা। বাদানুবাদ চলাকালীন রাহুল গান্ধী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বারবার দেশের বেকারত্ব এবং কৃষকদের সমস্যার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই বাজেট কেবল দেশের ১০ শতাংশ মানুষের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে এবং বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ চরম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার।
এই বিতর্কের সময় লোকসভায় হট্টগোল এতটাই বেড়ে যায় যে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিজেপি সাংসদরা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন এবং অভিযোগ করেন যে তিনি সংসদকে ভুল পথে চালিত করছেন। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা রাহুল গান্ধীর সমর্থনে স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিরেন রিজিজু তার যুক্তিতে আরও বলেন যে, মোদী সরকার দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিশ্বের দরবারে ভারতের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। তিনি রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান যে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের ১৩৫ কোটি মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে নেওয়া হয়েছে।
পুরো বিতর্কটি কেন্দ্র করে সংসদ চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে সরকার আদানি ও আম্বানির মতো শিল্পপতিদের সুবিধা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের করের টাকা অপচয় করছে। এর জবাবে রিজিজু তথ্য পেশ করে বলেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাত যেভাবে স্বনির্ভর হয়েছে, তা পূর্ববর্তী কোনো সরকার করতে পারেনি। দিনভর চলা এই বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছালেও, এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বাজেট ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যকার ব্যবধান আরও গভীর হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির অভিযোগ এক চরম সংঘাতের রূপ নেয়।
