আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসামের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজ্য সফর করলেন বর্ষীয়ান নেতা তথা নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুনীল শর্মা। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে তা খতিয়ে দেখা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা। গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সুনীল শর্মা তার পর্যালোচনায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন অবৈধ অনুপ্রবেশ বা কোনো ধরনের বহিরাগত প্রভাব নির্বাচনের ওপর না পড়ে। এছাড়া প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা কিছুটা কঠিন, সেখানে ইভিএম (EVM) মেশিন পৌঁছানোর বিকল্প এবং দ্রুত ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শতভাগ ভোটদান নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভাষায় প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুনীল শর্মা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে, আসামের বর্তমান প্রস্তুতি ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে যেন কোনো শিথিলতা না আসে। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উৎসাহ দিতে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামের প্রতিটি নাগরিক যেন ভয়হীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি রাজ্যের অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলোও পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
