চেন্নাই, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — তামিলনাড়ু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশে বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের রপ্তানি খাতে $3.93 বিলিয়ন (প্রায় ₹34,642 কোটি) ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন এই পরিস্থিতিকে “গভীর অর্থনৈতিক সংকট” বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা ‘Guidance Tamil Nadu’-এর মতে, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে টেক্সটাইল শিল্প, যেখানে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ $1.62 বিলিয়ন (₹14,280 কোটি)। তিরুপ্পুরের নিটওয়্যার শিল্প, যা গত বছর ₹40,000 কোটি বিদেশি মুদ্রা অর্জন করেছে, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। রাজ্য সরকার সতর্ক করেছে যে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তামিলনাড়ুর রপ্তানি নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের উপর অত্যন্ত বেশি — যেখানে ভারতের মোট রপ্তানির ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, সেখানে তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে এই হার ৩২ শতাংশ। ফলে, এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব তামিলনাড়ুর উপর অসমভাবে পড়ছে বলে রাজ্য সরকার দাবি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন কেন্দ্রের কাছে যে পদক্ষেপগুলোর দাবি করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা
- ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ
- বিকল্প রপ্তানি বাজার চিহ্নিতকরণে সহায়তা
- টেক্সটাইল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমর্থন
তিনি কেন্দ্রের cotton import duty স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বলেন, “এই পদক্ষেপ সাময়িক স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর সংকটের সমাধান নয়। শুল্ক প্রত্যাহার বা প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়”।
তামিলনাড়ুর এই আবেদন ভারতের রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কেন্দ্র যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন।
