February 21, 2026
tripura (2)

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ বলেছেন যে স্থানীয় ভাষা সংরক্ষণ এবং হিন্দির প্রসার একসাথে চলতে হবে, কারণ ভাষার মূল লক্ষ্য মানুষকে সংযুক্ত করা, তাদের বিভক্ত করা নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে আজ হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইন্ডোর হলে আয়োজিত পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর অঞ্চলের যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এদিন এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর এই সম্মেলন আয়োজনের মূল লক্ষ্য – সরকারি ভাষা নীতির বাস্তবায়নকে আরও জোরদার করা এবং সরকারি কাজে হিন্দি ভাষা ব্যবহারে প্রেরণা ও উৎসাহিত করা। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কারণে আজ আগরতলায় রাজভাষা সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে এই কার্যক্রমে উপস্থিত সমস্ত অতিথি ও প্রতিনিধিদের মা ত্রিপুরা সুন্দরীর পূণ্যভূমিতে হার্দিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল, আমি দিল্লি থেকে ত্রিপুরায় ফিরেছি এবং আসার সময় বিমান একেবারে পরিপূর্ণ ছিল। কারণ প্রায় সকলে এই সম্মেলনে যোগ দিতে আসছিলেন। আর শহরের সমস্ত হোটেল রুম সম্মেলনের জন্য বুক করা ছিল। এত বড় সম্মেলন যে এখানে হচ্ছে সেটা আমি ভাল অনুভব করেছি। এজন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তাঁর এই প্রচেষ্টার জন্য সত্যিই খুশি।

এই সম্মেলন আয়োজন করার জন্য প্রশাসনের আধিকারিকগণ নিরলস কাজ করেছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যাংকগুলিতে হিন্দি ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটা মঞ্চ হিসেবে এই রাজভাষা সম্মেলনের অসাধারণ মাহাত্ম্য রয়েছে। আজ এই কার্যক্রমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজভাষাকে নিয়ে সারা দেশকে একযোগে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই ভাষার মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে একটা মজবুত সম্পর্ক গড়ে উঠে, যার মাহাত্ম্য অনেক। এই প্রয়াসে হিন্দির ভূমিকা সবসময় উল্লেখযোগ্য। আমি মনে করি সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সমস্ত নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাতে সবাই সমান সুযোগ সুবিধা লাভে সমর্থ হন। ভারতবর্ষ বিভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের দেশ। হিন্দি বিশ্বের সবচেয়ে বড় লোকতন্ত্র ভাষা। আর বিবিধতার মধ্যে ঐক্য নিয়ে আসে। স্বাধীন স্থানীয় ভাষার সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রভাষা হিন্দির প্রসার ঘটাতে হবে। হিন্দি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম তৃতীয় ভাষা যার মাধ্যমে কথা বলা হয়। ভাষার মূল লক্ষ্য মানুষকে সংযুক্ত করা, বিভক্ত করা নয়। এটি আমাদের চিন্তাভাবনা এবং উত্তর পূর্বের চিন্তাভাবনাও। জাতীয় ভাষাকে প্রসার করা উচিত এবং এর সাথে স্থানীয় ভাষাগুলিরও উন্নতি করা উচিত। কারণ এটা আমাদের দেশের শক্তিও। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতের জাগরণের স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছে। ইংরেজিতে, প্রায় ১০,০০০ শব্দ রয়েছে, যেখানে হিন্দিতে ২.৫ লক্ষের বেশি শব্দ রয়েছে।

আমরা সকলেই জানি যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অধীনে বিভিন্ন ভাষার বিকাশ ও অনুশীলনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি মাতৃভাষাকে স্কুলে পড়াশোনার মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক স্কুলে মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষাও দেওয়া হয়। স্থানীয় ভাষা আমাদের পরিচয় ও প্রাণ। ত্রিপুরায় হিন্দি বলার প্রচলন বেড়েছে। হিন্দিভাষী এবং হিন্দি জানা লোকের সংখ্যাও বেড়েছে। সম্মেলনে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রাজভাষা বিভাগের সচিব অংশুলি আর্য, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মিলন রাণী জমাতিয়া সহ অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি ও পদস্থ আধিকারিকগণ। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কার্যালয়ের আধিকারিকগণ, পিএসইউ, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা সহ ৩ হাজারেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। রাজভাষা সম্মেলনে দেশের পূর্ব অঞ্চলের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ৮টি রাজ্য এবং উত্তর অঞ্চলের উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ থেকে প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *