গান মানুষের মনের খোরাক। গান এবং সুর অনেক সময়ই মানুষের জন্য থেরাপির কাজ করে, গান শুনে মন ভালো হয়। কিন্তু এমনও এক গান রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আত্মহত্যার বিতর্কিত ইতিহাস। সেই বিরল গান হল ‘গ্লুমি সানডে’। বাংলায় যার অর্থ, ‘বিষণ্ণ রবিবার’। ১৯৩৩ সালে হাঙ্গেরির পিয়ানোবাদক তথা সুরকার রেজসো সেরেসে গানটিতে সুর দিয়েছিলেন।
জানা যায়, সেরেসের ব্যক্তিজীবনের হতাশা, বেকারত্ব এবং দারিদ্র্যতা থেকেই সেই সুরের সৃষ্টি। পরবর্তীতে কবি লাসজলো জাভোর প্রেমে শোকগ্রস্ত ব্যক্তির উপর আলোকপাত করে নতুন করে গানের লিরিক্স লেখেন। সেটিতেও সুর দেন সেরেস। ১৯৩৩ সালের সেই ‘গ্লুমি সানডে’ গানটি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে হাঙ্গেরিতে।
এই আবহেই শোনা যায়, গানটির প্রকোপে দেশজুড়ে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। সুইসাইড করা অনেক ব্যক্তির কাছে পাওয়া যায় এই গানের লিরিক্সের নোট। এসব খবরের কোনও প্রামাণ্য তথ্য না মিললেও ‘হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এই গানের।
১৯৪১ সালে মার্কিন গায়িকা বিলি হলিডে নতুন করে গানটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তবে গুজবের জেরে লন্ডনে বিবিসি বহু বছর এই গান সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
গবেষকদের মতে, ১৯৩০-এর দশকে হাঙ্গেরিতে আত্মহত্যার উচ্চ হারের নেপথ্যে ছিল দারিদ্র, যুদ্ধ ও সামাজিক অস্থিরতা। ফলে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এই গানকে দায়ী করার কোনও ভিত্তি নেই।
তবে গানের স্রষ্টা সেরেসের পরিণতিও ছিল করুণ। নাৎসিবাহিনীর নির্যাতন থেকে মুক্ত হলেও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে আত্মহত্যা করেন ‘গ্লুমি সানডে’-র স্রষ্টা সেরেস।
