আসাম রাজ্যের নগাঁও জেলায় নদী দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করায় প্রশাসন তিনটি কারখানা সিল করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাগুলি নদীতে ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলছিল, যার ফলে পানির মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছিল এবং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছিল।
পরিবেশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের যৌথ অভিযানে কারখানাগুলি সিল করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, নদীর পানি পরীক্ষায় উচ্চ মাত্রায় রাসায়নিক ও বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে, যা মাছের মৃত্যু, কৃষিজমির ক্ষতি এবং মানুষের পানীয় জলের উৎসকে বিপজ্জনক করে তুলেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। পরিবেশ আইন ভঙ্গের কারণে কারখানাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর পানি ব্যবহার করতে গিয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ত্বকের রোগ, জ্বর এবং পেটের অসুখ বেড়ে গিয়েছিল।
প্রশাসন জানিয়েছে, কারখানাগুলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিবেশ আইন ভঙ্গ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদী পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ পরিষ্কার অভিযান চালানো হবে।
এই ঘটনায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির পরিবেশগত দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, নইলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
