একলা ভ্রমণের রোমাঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক অসাধারণ স্বাধীনতা। নিজের ইচ্ছেমতো ঘোরা, খাওয়া, থাকা— সবকিছুর উপর থাকে একান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু সেই স্বপ্নের সফরেই যদি হঠাৎ শরীর বিদ্রোহ করে, তখন? তখন আর কেউ পাশে নেই যে বলে উঠবে, “ওষুধটা কোথায় রেখেছ?”
এই কারণেই একলা সফরের সঙ্গে বাড়ে দায়িত্ববোধের গুরুত্ব। শুধু আনন্দ নয়, নিজের শারীরিক সুস্থতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও হয়ে ওঠে ভ্রমণের অন্যতম প্রধান শর্ত।
জল খাওয়া ভুলে গেলে বিপদ!
ট্রাভেল মানেই সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, ঘোরা, ছবি তোলা, কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা-কফি, কখনও অচেনা খাবার চেখে দেখা। কিন্তু এর ফাঁকে যদি জলপান বাদ পড়ে, তাহলে শরীর বিপদে পড়তে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি জায়গায় ঠান্ডার কারণে তেষ্টা কম লাগলেও, শরীরের জলের চাহিদা কিন্তু কমে না। মনে রাখতে হবে, সবসময় পরিশোধিত বা বোতলবন্দি জল পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
নতুন খাবার মানেই সতর্কতা!
বিদেশে গিয়ে বা অচেনা জায়গায় নতুন খাবার ট্রাই করার লোভ অনেকেই সামলাতে পারেন না। কিন্তু কিছু খাবার— বিশেষ করে সামুদ্রিক খাদ্য যেমন কাঁকড়া, ঝিনুক, স্কুইড ইত্যাদি— প্রথমবার খাওয়ার সময় অ্যালার্জির সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই অল্প পরিমাণে শুরু করা এবং অ্যালার্জির ওষুধ সঙ্গে রাখা জরুরি।
পোশাকেও গাফিলতি নয়
পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করা শুধুই ফ্যাশনের বিষয় নয়, বরং সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। ঠান্ডা অঞ্চলে হালকা পোশাক পরে ঘোরাঘুরি করলে হাইপোথারমিয়া বা নিউমোনিয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার উষ্ণ জায়গায় ভারী কাপড়ে গরম লেগে অসুস্থ হয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তাই গন্তব্য বুঝে পোশাক ঠিক করুন।
মাতাল হওয়ার জায়গা নয় ভ্রমণ
বেড়াতে গিয়ে আনন্দ-ফুর্তি নিশ্চয়ই থাকবে, তবে তার একটা মাত্রা থাকা জরুরি। গভীর রাতে পানশালায় অতিরিক্ত মদ্যপান বা পাহাড়ে গিয়ে হুল্লোড়— এগুলো শরীরের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। আনন্দ হোক, তবে বেহিসেবি নয়।
ওষুধপত্র ভুলবেন না
শুধু গ্যাসের বা জ্বরের ওষুধ নয়, সঙ্গে রাখতে হবে ব্যথার ওষুধ, ডায়রিয়ার ওষুধ, উচ্চতার কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ, অ্যালার্জি, এবং নিজের কোনো দীর্ঘমেয়াদী অসুখ থাকলে তার নিয়মিত ওষুধও। আর হ্যাঁ, ব্যাগে ছোট একটি প্রাথমিক চিকিৎসার কিট রাখা একান্ত প্রয়োজন।
একলা ঘোরার মজা অনেক, তবে দায়িত্বও কম নয়। প্রস্তুত থাকলে ছোটখাটো সমস্যা সামলে নেয়া যায় সহজেই। স্বাধীন ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও সুস্থ!
