মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যখন এক পক্ষ প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি পরাস্ত করার দ্বারপ্রান্তে থাকে, তখন যুদ্ধবিরতি কোনো যৌক্তিক সমাধান হতে পারে না। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেক দেশই এই সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছিল। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌ-শক্তিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, তেহরান থেকেও এসেছে তীব্র প্রতিরোধের বার্তা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় শত্রুপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, ইরান তার শত্রুদের ওপর এমন এক ‘বিস্ময়কর আঘাত’ হেনেছে যা তাদের দিশেহারা করে দিয়েছে। খামেনি তার বক্তব্যে বলেন, শত্রুরা ভেবেছিল শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে বা বিমান হামলা চালিয়ে ইরান সরকারকে উৎখাত করা যাবে, কিন্তু এটি তাদের একটি অলীক কল্পনা মাত্র। তিনি ইরানি জনগণকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক নয় বরং এটি একটি আদর্শিক লড়াই। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যতক্ষণ না তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার হবে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, ততক্ষণ তারা পিছু হটবে না।
এই দুই বিশ্ব নেতার পাল্টাপাল্টি অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। একদিকে হোয়াইট হাউস যখন পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে সমুদ্রপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো কৌশলগত আক্রমণ চালিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কাজ না করে, তবে এই সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে দুই পক্ষই জয়ের দাবি করলেও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসলীলা এক মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
