মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ Strait of Hormuz দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা সহায়তা দেয় এবং প্রয়োজনে সামরিক এসকর্ট প্রদান করে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, ফলে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ট্রাম্পের মতে, এই জলপথ দিয়ে যেহেতু বিশ্বের বহু দেশের জ্বালানি সরবরাহ নির্ভরশীল, তাই এর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থাকা উচিত নয়; বরং মিত্র দেশগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিভিন্ন মিত্র দেশের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। কিছু দেশ নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও অনেকেই সরাসরি সামরিক এসকর্টে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত একটি পথ, যেখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা ও জাহাজ আটকানোর ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চললেও কূটনৈতিক সমাধান ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে অনেক দেশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট সমন্বয়, রাজনৈতিক সমর্থন এবং স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
