আসন্ন ৯ই এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোকরাঝাড়ে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করল ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (ইউপিপিএল)। ১৪ পৃষ্ঠার এই দলিলে মূলত বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল বা বিটিসি অঞ্চলে দলের বিগত দিনের সাফল্য এবং আগামী দিনের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দলের সভাপতি প্রমোদ বড়ো এবং প্রবীণ নেতা ইউজি ব্রহ্মার উপস্থিতিতে এই ইশতেহার উন্মোচন করা হয়। বিটিআর শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করার বিষয়টিকে এবারের নির্বাচনে প্রধান হাতিয়ার করেছে ইউপিপিএল।
ইউপিপিএল-এর পক্ষ থেকে এই ইশতেহারকে ‘সর্বজনীন’ বা ইনক্লুসিভ বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রবীণ নেতা ইউজি ব্রহ্মা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ছে এবং আগে যারা বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ)-কে সমর্থন করতেন, তাদের একটি বড় অংশ এখন ইউপিপিএল-এর দিকে ঝুঁকছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিটিসি অঞ্চলে বিপিএফ-এর একাধিপত্যে ফাটল ধরিয়ে নিজেদের জমি শক্ত করাই এখন ইউপিপিএল-এর মূল লক্ষ্য। দলের দাবি, এই পরিবর্তনের হাওয়া আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হবে।
নির্বাচন-পরবর্তী জোটের বিষয়ে দলের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করেছেন প্রমোদ বড়ো। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, বিটিসি অঞ্চলের ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ইউপিপিএল ১০ থেকে ১২টি আসনে জয়লাভ করবে। এই জয়ের ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তার দল ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে বড়ো স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এবার আর কোনো নিঃশর্ত সমর্থন তারা দেবেন না। উন্নয়ন, বড়োল্যান্ডের অধিকার রক্ষা এবং পিছিয়ে পড়া জনজাতির উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পেলেই কেবল সরকার গঠনে সমর্থনের কথা ভাববে ইউপিপিএল।
প্রচারণায় নেমে প্রমোদ বড়ো বিপিএফ এবং তাদের প্রার্থী সেউলি মোহিলারির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজনীতি সমাজসেবার জায়গা হলেও বিরোধী পক্ষ একে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ইউপিপিএল প্রার্থী লরেন্স ইসলামির দীর্ঘ দুই দশকের তৃণমূল স্তরের কাজের প্রশংসা করে তিনি তাকেই যোগ্য জনসেবক হিসেবে তুলে ধরেন। লরেন্স ইসলামিও তার প্রচারে দাবি করেছেন যে, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে এবার আর নির্বাচন জেতা সম্ভব নয় কারণ সাধারণ মানুষ এখন সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছেন।
সামগ্রিকভাবে, ইউপিপিএল-এর এই ইশতেহার এবং প্রমোদ বড়োর আক্রমণাত্মক প্রচার আসামের নির্বাচনী লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে তামুলপুর এবং কোকরাঝাড়ের মতো আসনগুলিতে ইউপিপিএল-এর শক্ত অবস্থান বিপিএফ-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটিসি-র শাসনভার হাতে পাওয়ার পর এবার রাজ্য রাজনীতিতেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া প্রমোদ বড়োর দল। এখন দেখার বিষয়, ৯ই এপ্রিলের ভোটে বিটিআর অঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের দাবিতে ইউপিপিএল-এর ওপর কতটা আস্থা রাখে।
