আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি পাসপোর্ট এবং বিদেশে বিপুল সম্পত্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার লোকসভা সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, সাহস থাকলে তিনি যেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ছুঁয়ে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার, যখন কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা এবং গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মার তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট (সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া-বারবুডা) রয়েছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে তাঁদের দুটি সম্পত্তি এবং আমেরিকায় শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন এবং দাবি করেন যে, পাকিস্তান-ভিত্তিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের ভুল তথ্য ব্যবহার করে কংগ্রেস এই ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা পরেই যোরহাটের সাংসদ গৌরব গগৈ পাল্টা আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “আমি গতকালও বলেছি এবং আজ আবারও বলছি, আমি ভগবদ্গীতা ছুঁয়ে শপথ করে বলতে পারি যে লন্ডনে আমার কোনো সম্পত্তি নেই। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কি তা পারবেন? আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করছি, একটি সাধারণ জায়গায় এসে তিনিও যেন গীতা ছুঁয়ে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।” গগৈ আরও প্রশ্ন তোলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কি দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসা’ আছে? এবং যদি থেকে থাকে, তবে সেটি কি ভারতীয় পাসপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া?
গৌরব গগৈয়ের দাবি, যদি এই সম্পত্তিগুলোর কথা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ না করা থাকে, তবে তথ্য গোপনের দায়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থিপদ বাতিল হতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কংগ্রেস আসামে ক্ষমতায় এলে এই সমস্ত বেনামি সম্পত্তি এবং বিদেশি ব্যবসার নেটওয়ার্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি আরও জানান যে, তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মা ইতিমধ্যেই পবন খেরার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাচন দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এমন হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক তরজা আসামের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
