গরম পুরোপুরি শুরুই হয়নি, তার আগেই জলকষ্টে জেরবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে আসানসোল–রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে পানীয় জলের সঙ্কট বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
লানপুর, বারাবনি, জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জ–সহ একাধিক গ্রামীণ এলাকায় গত দু’সপ্তাহ ধরে তীব্র জলাভাব দেখা দিয়েছে। বহু জায়গায় বাসিন্দারা জলের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, এমনকি জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।
জামুড়িয়ার কেন্দা পঞ্চায়েতের সালডাঙা, মাঝিপাড়া ও বাউড়ি পাড়া–সহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষ চরম সঙ্কটে। স্থানীয়দের দাবি, আগে এলাকায় ৫৩টি পুকুর ছিল। এর অনেকগুলি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকলেও পরে বিক্রি হয়ে যায় এবং খনি সম্প্রসারণের জন্য সেগুলি ভরাট করা হয়। ফলে দৈনন্দিন কাজের জল পাওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমস্যা আরও বেড়েছে দামোদর নদ থেকে জল তোলার পাইপলাইন ভেঙে যাওয়ায়। কালাঝরিয়া জল প্রকল্প থেকে আগে যে পরিশোধিত জল সরবরাহ হত, তা গত বছরের জুলাই মাস থেকে বন্ধ। এখনও পাইপলাইন পুরোপুরি মেরামত হয়নি বলে অভিযোগ। বর্তমানে ইসিএল ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের হাতে গোনা কয়েকটি ট্যাঙ্কারের উপরই ভরসা করতে হচ্ছে মানুষকে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
রানিগঞ্জের গ্রামাঞ্চলেও নতুন কোনও জল প্রকল্প গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। খনি এলাকায় এমনিতেই ভূগর্ভস্থ জলের স্তর অনেক নীচে। সামান্য গরমেই কুয়ো ও পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। বল্লভপুর, রঘুনাথচক ও বেড় এলাকাতেও একই অবস্থা। জেমেরি পঞ্চায়েতে জল আনার জন্য পাইপ বসানো হলেও এখনও জল পৌঁছয়নি, উল্টে রাস্তার ক্ষতি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, দামোদরে জলের স্তর কমে যাওয়া ও নদী থেকে অবৈজ্ঞানিক বালি তোলার কারণে জল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির তরফে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সালানপুরে ১১৮ কোটি টাকার কল্যাণেশ্বরী জল প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হলেও এখনও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছয়নি। ফলে তীব্র গরমের মুখে সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়।
