April 2, 2026
Screenshot 2026-04-02 141909

পশ্চিমবঙ্গের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। ‘এসআইআর’ (SIR) বা বিশেষ তদন্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে একদল বিক্ষোভকারী সাতজন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে জিম্মি করে রাখে। এই ঘটনায় রাজ্যের বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট একটি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে বিক্ষোভকারীরা সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের দীর্ঘ সময় একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে, যখন একদল উত্তেজিত জনতা আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের মূল দাবি ছিল, সাম্প্রতিক একটি মামলায় জমা পড়া এসআইআর অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই রিপোর্টে সত্য গোপন করা হয়েছে এবং পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষোভকারীরা আদালতের প্রবেশপথ ও কর্মকর্তাদের কক্ষের বাইরে অবস্থান নেয়। ফলে সাতজন উচ্চপদস্থ বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতর আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ। তবে বিক্ষোভকারীদের উগ্র মেজাজের কারণে প্রাথমিক অবস্থায় কর্মকর্তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার চেষ্টা চললেও বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকে। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আইনজীবী মহল ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের হামলা বা তাদের জিম্মি করা আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। ঘটনার পর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচারবিভাগীয় কাজে এ ধরনের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে সব মহল থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *