May 13, 2026
image (66)

আসামের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে এই জয়ের আনন্দ উদযাপনের মাঝেই তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সবথেকে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে মন্ত্রিসভার গঠন এবং রাজ্যের দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান।

১২৬ সদস্যের বিধানসভায় এনডিএ জোট ১০২টি আসন দখল করলেও, আইন অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা ১৯-এর বেশি হতে পারবে না। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীসহ মাত্র পাঁচজন শপথ গ্রহণ করেছেন। ফলে দলের অভ্যন্তরে ভারসাম্য বজায় রেখে যোগ্য সদস্যদের বেছে নেওয়া এখন শর্মার প্রাথমিক লক্ষ্য।

মন্ত্রিসভা গঠনের পাশাপাশি আরও একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হলো বিদেশি অনুপ্রবেশ সমস্যা। নির্বাচনের আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার বিদেশি শনাক্তকরণ ও তাঁদের বিতাড়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ সরকার এই শনাক্তকৃত ব্যক্তিদের গ্রহণ করতে নারাজ হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক স্তরে বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। এছাড়া আসাম চুক্তির ‘ক্লজ-৬’ বা ষষ্ঠ দফা বাস্তবায়ন, যা ভূমিপুত্রদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করবে, সেটিও তাঁর এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।

প্রতি বছর আসামের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলা ভয়াবহ বন্যা সমস্যা মোকাবিলা করাও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার জন্য একটি বড় প্রশাসনিক পরীক্ষা। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এখন দেখার বিষয়, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে অতিক্রম করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *