May 9, 2026
image - 2026-05-09T140828.990

কাছাড় জেলার কাটিগড়ার একটি বেসরকারি স্কুলে টিফিন বিরতির সময় পাঁচ বছর বয়সী এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত শিশুর নাম সাকিব আলম, সে গঙ্গাপুরের বাসিন্দা এবং কাটিগড়ার ‘হলি ফ্লাওয়ার সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে’ পড়াশোনা করত। এই ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং তদারকি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কাছাড়ের জেলাশাসক আয়ুষ গর্গ ইতিমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন এবং স্কুল পরিদর্শককে একটি বিশদ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসার ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন।

বৃহস্পতিবার স্কুলের টিফিন বিরতির সময় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, ক্লাসরুমের ভেতরে বাড়ি থেকে আনা খাবার খাওয়ার সময় শিশুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে, অন্য এক ছাত্র ক্লাসরুমে উপস্থিত শিক্ষককে সাকিবের অসুস্থতার কথা জানানোর চেষ্টা করছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সেই মুহূর্তে ওই শিক্ষক অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাউন্ট করা গাফিলতির অভিযোগের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ আংশিক অবহেলার কথা স্বীকার করেছে। তবে স্কুল ম্যানেজমেন্টের দাবি, তারা এর আগেই অভিভাবকদের অনুরোধ করেছিলেন শিশুদের টিফিন বক্সে চিপস বা প্যাকেটজাত প্রক্রিয়াজাত খাবার না দেওয়ার জন্য। কাটিগড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “অভিভাবকরা যখন তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান, তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষেরই থাকে। এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বিধায়ক আরও জানিয়েছেন যে, তিনি নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নিয়মবিধি প্রণয়নের দাবি জানাবেন। বর্তমানে স্কুল পরিদর্শক মিঠুন জোহরি নিশ্চিত করেছেন যে, একটি প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র কাটিগড়া নয়, বরং পুরো অসম জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের নিবিড় তদারকির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে। সাকিবের মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *