গুয়াহাটি হাইকোর্ট চন্দমারির একটি পুজো কমিটির বিরুদ্ধে ওঠা ড্রেন দখলের অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনারকে। কৃষ্ণনগরের স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি করতে গিয়ে আদালত এই নির্দেশ দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে ‘কৃষ্ণনগর-আমিয়া নগর-রুদ্রনগর-পূর্বাঞ্চল নগর আঞ্চল্লিক শ্রী শ্রী দুর্গা পুজো উদযাপন সমিতি’ তাদের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ড্রেনের ঠিক ওপরে অবৈধভাবে নির্মাণ করেছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে কৃষ্ণনগর দীপজ্যোতি সংঘের সামনে দুর্গাপূজা ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের জন্য এই কার্যালয়টি তৈরি করার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তবে সেই অনুমতির শর্তে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল যে এই ধরনের কোনো অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা যাবে না যার ফলে কোনো রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেন বা সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো রকম বিঘ্ন ঘটে। মামলার শুনানির সময় আদালত আবেদনকারীদের জমা দেওয়া বিভিন্ন ছবি খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি স্পষ্ট হয় যে পুজো কমিটির তৈরি করা ওই অস্থায়ী কার্যালয়টি প্রকৃতপক্ষে একটি ড্রেনের ওপরই নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ ছিল যে, এই বিষয়ে বারবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে জিজেমসি কমিশনারকে নিজে অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের মাধ্যমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাচাই করতে হবে যে পুজো কমিটি অনুমতিপত্রের সমস্ত শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলেছে কিনা। আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছে যে, তদন্তে যদি এটা প্রমাণিত হয় যে ওই অস্থায়ী কাঠামোটি সত্যি কোনো রাস্তা, ফুটপাত, ড্রেন কিংবা জন সাধারণের চলাচলের পথ আটকে বা দখল করে তৈরি করা হয়েছে, তবে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ড্রেন ও নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের চলাচলের অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব বলে আদালত মনে করিয়েছে, যা আগামী দিনে উৎসবের মরশুমে এ ধরনের বেআইনি দখলদারিত্ব রোধ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
